মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত যাওয়ার উপায়, মাধবকুণ্ড ঝর্ণা ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। ২০০ ফুট উপর থেকে অবিরাম জলধারা নিচে আছড়ে পড়ছে। এত উঁচু থেকে পাথরে জলকণা আছড়ে পরার কারণে বাতাসে উড়ে তৈরি করছে কুয়াশার। পাহাড়ের উপর থেকে পাথরের ওপর দিয়ে ছুটে আসা পানির স্রোত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে হঠাৎ খাড়াভাবে উঁচু পাহার থেকে একেবারে নিচে পড়ছে। এতে দুটি ধারার সৃষ্টি হয়েছে। একটি বড় এবং অপরটি ছোট। বর্ষাকালে দুটি ধারা মিশে বিশাল আকার ধারণ করে। জলরাশি যেখানে আছড়ে পরছে তার চতুর্দিকে পাহাড়, নিচে কুণ্ড। কুণ্ডের মধ্যভাগে অনবরত পানি পড়ছে। এই জলপ্রপাতের নিকটেই খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের অবস্থান কোথায়?

বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের অবস্থান। এখানে রয়েছে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক, যেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক ভ্রমণ করতে আসে। জলপ্রপাতের চতুর্দিকে বিশাল বনভূমি রয়েছে।

কখন যাবেন মাধরকুণ্ড জলপ্রপাতে?

সারা বছরই মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে পানি প্রবাহমান থাকে। তবে শীতকালে এর প্রবাহ কিছুটা কমে যায় এবং বর্ষাকালে এর পানির প্রবাহ সব থেকে বেশি থাকে। তাই বর্ষা কালই মাধবকুণ্ড যাওয়ার উপযুক্ত সময়। তবে ভরা বর্ষায় কিছু সমস্যা থাকে। তখন রাস্তাঘাট খারাপ থাকে এবং বন্যায় অনেক যায়গা প্লাবিত হয়ে যায়। এই জন্য মাঝ বর্ষায় না যেয়ে বর্ষার প্রথম বা শেষের দিকে মাধবকুণ্ড যাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তখন মাধবকুণ্ডের প্রাকৃতিক পরিবেশর সৌন্দর্য অনেকগুণে বেড়ে যায়। তখন জলপ্রপাতে জলরাশির প্রবাহের পরিমান বেশি থাকে।

যেভাবে যাবেন

মাধবকুণ্ড যেতে হলে প্রথমে আপনাকে আসতে হবে সিলেটের মৌলভীবাজার জেলায়। মৌলভীবাজার আপনি বিভিন্ন উপায়ে আসতে পারেন। বাস, ট্রেন এমনকি আপনি আকাশপথেও আসতে পারেন। গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী ও ঢাকার ফকিরাপুল বাস টার্মিনাল থেকে মৌলভীবাজার বাসগুলো ছেড়ে যায়। এদের মধ্যে ইউনিক, এনা, গ্রীন লাইন, শ্যামলি ও সৌদিয়া অন্যতম। ঢাকা থেকে মৌলভাবাজারের দূরত্ব প্রায় ২১০ কিলোমিটার। বাসে যেতে সময় লাগবে প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। চট্টগ্রাম থেকে মৌলভীবাজার সরাসরি এসি ও নন-এসি বাসে করে যেতে পারবেন। গ্রীনলাইন, এনা ও সৌদিয়া সহ অনেক পরিবহন রয়েছে সিলেটের মৌলভীবাজার যাওয়ার জন্য।

যারা ঢাকা থেকে ট্রেনে সিলেট যেতে চান তারা কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যেতে পারবেন। এছাড়াও কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকেও সিলেটগামী ট্রেন ছেড়ে যায়। আপনাকে নামতে হবে সিলেটের কুলাউড়া স্টেশনে। কুলাউড়া থেকে মাধবকুণ্ডের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। কুলাউড়া থেকে সিএনজি বা অটোরিক্সা করে সরাসরি মাধবকুণ্ড যাওয়া যায়। বাসে করে যেতে হলে কাঠালতলী বাজারে নেমে সেখান থেকে আবার সিএনজি অটোরিক্সায় করে মাধবকুণ্ডে যেতে হয়। নির্ধারিত প্রবেশ ফি দিয়ে মাধবকুণ্ড পর্যটন এলাকায় ঢুকতে হয়।

আর সবচেয়ে দ্রুত যেতে চইলে আপনাকে বেঁছে নিতে হবে আকাশপথ। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা চট্টগ্রামের শাহ-আমানত বিমানবন্দর থেকে সিলেট যেতে পারেন, তারপর সিলেট থেকে মৌলভীবাজার যেতে হবে।

থাকার ব্যবস্থা

মাধবকুণ্ড এলাকায় থাকার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। এখানে জেলাপরিষদের ২টি বাংলো এবং কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে, সেখানে থাকতে পারেন। নাহয় আপনি মৌলভীবাজার বা শ্রীমঙ্গল যেয়ে থাকতে পারেন।

সতর্কতা:

* ভালোমানের গ্রিপের জুতা পরে যাবেন, কারণ যায়গাটি অনেক পিচ্ছিল।
* ঝর্ণার যাতায়াত পথটি অনেক পিচ্ছিল এবং দুর্গম। তাই সাবধানের সাথে পথ চলবেন।
* কোন কিছু খাওয়ার আগে অবশ্যই দাম জিজ্ঞেস করে নিবেন।
* উপজাতিদের অপমান হয় এমন কোন আচরণ করবেন না। 

আরও পড়ুন: পাহাড়ের রানী দার্জিলিং এর দর্শনীয় স্থান

Post a Comment

Previous Post Next Post