পেঁয়াজের উপকারিতা এবং পেঁয়াজ কিভাবে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে

পেঁয়াজের পুষ্টিগুণ

পেঁয়াজে কি কি উপাদান রয়েছে
পেঁয়াজ


আপনি যদি পেঁয়াজের অধিক সুবিধা নিতে চান, তাহলে আপনাকে পেঁয়াজ কাঁচা খেতে হবে অথবা  পেঁয়াজের রস খেতে হবে। আমরা রান্নায় যে পেঁয়াজ খাই, তা উপকারী হলেও এর কোনো ঔষধি গুণ থাকেনা। তাই আপনি যদি প্রতিদিন সালাদের সাথে পেঁয়াজ খাওয়ার অভ্যাস করেন, তাহলে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে এবং আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

পেঁয়াজ ঔষধি গুণের একটি প্রাকৃতিক উৎস; বাঙালীর ঘরে ঘরে কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার পাশাপাশি রান্নায় ব্যবহার করে থাকে। পেঁয়াজের পাতাগুলি গাঢ় সবুজ, কারণ তারা সূর্যের রশ্মি শোষণ করতে পারে। আমরা পেঁয়াজের পাতা এবং কুঁড়ি রান্না করে খাই।  তবে এই কুঁড়ি সামান্য লবণ দিয়ে চিবিয়ে রস খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

পেঁয়াজের পুষ্টিগুণ:

পেঁয়াজে রয়েছে ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫, বি-৬, বি-৯ এবং ভিটামিন সি। পেঁয়াজ দেহে শক্তি আনয়ন করে, বিভিন্ন ভিটামিনের গুণাগুণ দিয়ে শরীরকে লুব্রিকেট করে, হার্টের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: আমলকির উপকারিতা এবং অতিরিক্ত আমলকি খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে


 পেঁয়াজে থাকা ফাইবার হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।
 কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
 প্রতিদিন ১৬০ মিলিগ্রাম পেঁয়াজ খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
 পেঁয়াজ হার্টের সমস্যা দূর করে।
 সর্দি-জ্বর নিরাময় করে।
 চোখের জ্যোতি ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
 যাঁরা অ্যাজমার সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা প্রতিদিন দুইবার এক চা-চামচ পেঁয়াজের রস খেলে অ্যাজমার সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।
 এক চামচ পেঁয়াজের রসের সাথে সমপরিমাণ গরম পানি মিশিয়ে খেলে পেট পরিষ্কার হয়। দুপুরে খাওয়ার পর খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
 অনেকে প্রস্রাবের চাপ ধরে রাখতে পারেন না, একটু দেরী হয়ে গেলে এক-দুই ফোঁটা বের হয়ে যায়। তাদের জন্য রাতে ঘুমানোর আগে এক চামচ পেঁয়াজের রস আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে। চার সপ্তাহ খেলে প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়বে, ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
 অনেকের মাঝে মধ্যে নাক দিয়ে রক্ত ​​ঝরতে থাকে। নাকের মধ্যে পেঁয়াজের রস টানলে রক্ত ​​পড়া বন্ধ হবে।
 পাইলসের কারণে পায়ুপথে রক্তক্ষরণ হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় এক চামচ পেঁয়াজের রস সমপরিমাণ পানিতে মিশিয়ে খেলে ধীরে ধীরে রক্ত ঝরা বন্ধ হয়ে যাবে।
 সালাদের সাথে কাঁচা পেঁয়াজ খেলে ঘনঘন পিপাসা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
 কখনও কখনও শিশুদের কানে পুঁজ আসে; এমন অবস্থায় পেঁয়াজের রস একটু গরম করে কানে ২-১ ফোঁটা দিলে ক্ষত সেরে যাবে। আয়ুর্বেদের চিকিৎসা অনুযায়ী এটি কানের জন্য একটি অব্যর্থ ওষুধ।
 এক কাপ কুসুম পানিতে চার থেকে পাঁচ ফোঁটা পেঁয়াজের রস মিশিয়ে পান করলে বমি বন্ধ হতে সাহায্য করবে।
 বিষাক্ত ফোঁড়া ফাটাতে পেঁয়াজের রস সামান্য গরম করে লাগালে, সহজেই ফোড়া ফেটে যাবে।
 ঠাণ্ডা বা জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা হলে দুই থেকে তিন ফোঁটা পেঁয়াজের রস নাকে দিলে মাথা ব্যথা ও ধরা সঙ্গে সঙ্গে কমে যায়।

আরও পড়ুন: ফলের পুষ্টিগুণ ও কোন ফল খেলে কি উপকার হয়


রেফারেন্স: খাদ্য ও আকুপ্রেসার বিশেষজ্ঞ


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন