ভোটার আইডি কার্ড চেক ও অনলাইন কপি ডাউনলোড করার নিয়ম | NID Card Check and nid card online copy download

nid card check

আজকের পোস্টটি তাদের জন্য যারা নতুন ভোটার হয়েছেন বা যারা অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড চেক ও ডাউনলোড করতে চান। ভোটার আইডি কার্ড চেক করার এই পোস্টটি সম্পূর্ণভাবে পড়ুন এবং আশা করি আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ড সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।

এন আইডি কার্ড চেক এবং ডাউনলোড করতে আমরা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেকে অনলাইনে NID কার্ড খুজে পান না। সুতরাং আপনি যদি এই পোস্টটি ভালভাবে অনুসরণ করেন তবে আপনি সহজেই আপনার ভোটার আইডি কার্ড চেক ও ডাউনলোড করতে পারবেন। তো চলুন শুরু করা যাক আজকের ভোটার আইডি কার্ড চেকিং প্রক্রিয়া।

মোবাইল এবং কম্পিউটারে ভোটার আইডি বা NID কার্ড চেক ও ডাউনলোড

NID Card Check in online: 

নতুন ভোটার হওয়ার জন্য একটি আবেদন ফরম পূরণ করতে হয়। সেই আবেদন ফরমটি উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা দেয়ার পর ফিঙ্গার ও ছবি নেয়া হয়। তখন একটি স্লিপ দেয়া হয়, যেখানে ৯ ডিজিটের একটি নাম্বার রয়েছে। এই ৯ ডিজিটের নম্বরটি দিয়ে ভোটার আইডি চেক করা যায়। অথবা আপনার আগে থেকেই যদি এনআইডি কার্ড থাকে, তাহলে সেই NID নম্বরটি দিয়েও চেক করতে পারবেন এবং আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন। 

ভোটার আইডি কার্ড চেক করার পদ্ধতি

ভূমি মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে জমি ক্রয় বিক্রয় সংক্রান্ত কাজে ভোটার আইডি কার্ড চেক করে নিতে পারবেন। এখানে আপনাকে ছবি সহ ভোটার তথ্য দেখাবে। এই জন্য আপনাকে এই লিংকে যেতে হবে https://ldtax.gov.bd/citizen/register

১) এবার মোবাইল নম্বর ঘরে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন (যেখানে ওটিপি যাবে)।

২) জাতীয় পরিচয় পত্র ঘরে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রে ১০ বা ১৭ ডিজিটের নম্বর দিন। জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর যদি ১৩ ডিজিটের হয়ে থাকে তাহলে পূর্বে আপনার জন্ম সাল দিয়ে ১৭ ডিজিট বানাতে হবে।

৩) NID কার্ডে যে জন্ম তারিখটি দেয়া আছে তা দিন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ বাটনে ক্লিক করুন।

৪) আপনার মোবাইলে একটি OTP যাবে, সেই সংখ্যাটি দিন এবং পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।

এবার সেই জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য দেখতে পারবেন।

দ্বিতীয় পদ্ধতি

ভোটার আইডি কার্ড চেক করার জন্য আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে যেতে হবে। ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে SC>Space<NID Number লিখে 105 নম্বরে পাঠিয়ে দিতে হবে। যেমন: SC 9582772044 এভাবে লিখে 105 নম্বরে পাঠাতে হবে। যদি ফিরতি ম্যাসেজে Your card is ready to deliver আসে তাহলে বুঝতে হবে আপনার ভোটার আইডি কার্ডটি হয়েগেছে। আর যদি ফিরতি ম্যাসেজ আসে Your card distribution date is not scheduled yet, please try later তাহলে বুঝতে হবে আপনার ভোটার আইডি কার্ডটি বিতরণের তারিখ ও স্থান এখনও নির্ধার করা হয়নি।

যেভাবে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করবেন

প্রথমে নিচে দেয়া লিংকে প্রবেশ করতে হবে এবং রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করার জন্য রেজিস্টার করুন বাটনে ক্লিক করুন। তারপর “জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর/ফর্ম নম্বর” ঘরে আপনার NID নম্বরটি দিন। আর যদি আপনি নতুন ভোটার হয়ে থাকেন তাহলে নিবন্ধন স্লিপটির মধ্যে একটি ফরম নম্বরের  ঘর রয়েছে এবং সেখানে একটি সংখ্যা রয়েছে। সেই সম্পূর্ণ সংখ্যাটি “জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর/ফর্ম নম্বর” এই ঘরে দিন এবং জন্ম তারিখ ঘরে আপনার জন্ম তারিখটি দিতে হবে। তারও নিচে একটি সিকিউরিটি কোড দেয়া থাকবে সেটি ভালোভাবে খেয়াল করুন। সেই কোডটি নিচের ঘরে দিতে হবে। তারপর সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন। এবার আপনার বিভাগ, জেলা, উপজেলা সিলেক্ট করুন, যেভাবে আপনার ভোটার কার্ডে বা এনআইডিতে দেয়া রয়েছে। সবকিছু দেয়া হয়েগেলে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।

সবকিছু ঠিক থাকলে আপনার মোবাইল নম্বরটি দেখাবে, যেটি আপনি ভোটার হওয়ার সময় দিয়েছিলেন। এই মোবাইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড যাবে। ইচ্ছে করলে “মোবাইল পরিবর্তন” বাটনে ক্লিক করে মোবাইল নম্বরটি পরিবর্তন করে নিতে পারবেন। যদি পরিবর্তন না করতে চান, তাহলে “বার্তা পাঠান” বাটনে ক্লিক করুন। মোবাইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড যাবে, সেটি দেয়ার পর আপনার ফেইস ভেরিফাই করতে হবে। 

ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে ফেইস ভেরিফাই যেভাবে করতে হবে

নম্বর ভেরিফাই করার পর আপনার সামনে NID Wallet নামের একটি পেইজ আসবে। এবার আপনার মোবাইলের প্লেস্টোর থেকে NID Wallet নামের সফটওয়্যারটি ইনস্টল করুন। এবার এপসটি ওপেন করে নির্দেশনামত ভেরিফিকেশন শেষ করুন। কিউআর কোড স্ক্যান করে প্রথমে মোবাইল ক্যামেরাটি সামনে ধরুন, তারপর ডানে, তারপর বামে ধরুন। তিনটি ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হলে নিচের তিনটি ছবিতেই টিক চিহ্ন উঠবে।  ফেইস ভেরিফাই হয়েগেলে রেজিস্ট্রেশনের যেই ধাপে ছিলেন সেখানে যান। সেখানে গেলে দেখতে পাবেন আপনার নাম সহ ছবি দেখাচ্ছে। তারও নিচে আপনাকে সেট পাসওয়ার্ড ঘরে ক্লিক করে পাসওয়ার্ড ও ইউজার নেম সেট করুন। এড়িয়ে যান বাটনে ক্লিক করবেন না, নাহয় পরবর্তীতে আপনাকে ভোটার আইডি কার্ডের কোন কিছু পরিবর্তন করতে হলে আবার প্রথম থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আর ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড থাকলে সহজেই লগিং করতে পারবেন, নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না।

ইউজার ও পাসওয়ার্ড সেট করার পর পরবর্তী ধাপে আপনার প্রোফাইন ও ডাউনলোড অপশন আসবে। যারা সবে মাত্র ভোটার হয়েছেন, কিন্তু আইডি কার্ড পাননি তারা ডাউনলোড অপশন থেকে এনআইডি কার্ডটি ডাউনলোড করতে পারবেন। কিন্তু যারা এনআইডি কার্ড পেয়েছেন এবং কার্ডটি হাড়িয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে তারা নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে এনআইডি কার্ড তুলতে হবে। বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন।

যাদের রেজিস্ট্রেশন করা আছে তারা এখানে লগিং করুন

বিকাশের মাধ্যমে যেভাবে NID ফি জমা দিবেন

আরও পড়ুন: ঘরে বসে নিজেই নিজের পাসপোর্ট করবেন যেভাবে

পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
মন্তব্য নেই
মন্তব্য যোগ করুন
comment url