পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান এবং এক নজরে পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান
পদ্মা সেতু

প্রকল্প নাম: পদ্মা বহুমুখী সেতু।

অবস্থান: ঢাকা থেকে ৪০কি.মি দক্ষিণ-পশ্চিমে। মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা জুড়ে অবস্থিত। সেতুর উত্তর প্রান্ত মুন্সীগঞ্জের মাওয়া এবং দক্ষিণ প্রান্তে শরীয়তপুরের জাজিরা অবস্থিত। 

প্রাক-সম্ভাব্যতা ১৯৯৮ থেকে ২০০০ পর্যন্ত যাচাই শুরু হয়েছিল। তারপরে ২০০১ সালে জাপানিদের সহায়তায় একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়েছিল। জুলাই ২০০৪ সালে, সরকার জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এর সুপারিশে মাওয়া ও জাজিরার মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে পদ্মা সেতুর নকশা চূড়ান্ত করে এবং ৬.১৫ কিলোমিটার সেতুর চূড়ান্ত নকশা প্রস্তুত করা হয়।

২০০৭ সালে একনেক সভায় ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। পরে, নকশার পরিবর্তন এবং দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির সাথে সাথে নির্মাণ ব্যয়ও বাড়ে। ২০১১ সালে, ২০ হাজার কোটি টাকার একটি সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন করে। ২০১৬ সালে আবার ব্যয় ৮ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা বেড়ে যায়, তখন মোট ব্যয় বেড়ে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা হয়। সর্বশেষ মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮লাখ ৭৬ হাজার টাকা। 

প্রকল্প বাস্তবায়কারী ঠিকাদার: চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের আওতাধীন চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। 

কাজ শুর: ২৬ নভেম্বর, ২০১৪।

অফিসিয়াল নাম: পদ্মা সেতু।

ডিজাইনার: আমেরিকান মাল্টিন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম এইসিওএমের (AECOM) নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরামর্শকদের নিয়ে গঠিত একটি দল। 

উপকরণ: কংক্রিট ও স্টিল। 

দৈর্ঘ্য: পদ্মা বহুমুখী সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৭২ ফুট।

ভায়াডাক্ট: সেতুটির ভায়াডাক্ট ৩ দশমিক ১৮ কিলোমিটার । মূল সেতুতে যুক্ত হতে যে সংযোগ সেতু করা হয়েছে তাকে ভায়াডাক্ট বলে ।

ভায়াডাক্ট পিলার: ৮১টি।

পাইলিং গভীরতা: ৩৮৩ ফুট।

মোট পিলার: পদ্মা সেতুর পিলার ৪২টি, প্রতিটিতে রয়েছে ৬টি পাইল এবং প্রতিটির ব্যাসার্ধ ৩ মিটার।

মোট স্প্যানের সংখ্যা: মাওয়া প্রান্তে ৩৯টি (দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৭৮  মিটার) এবং জাজিরা প্রান্তে ৪২টি (দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৬৭০ মিটার)।

ভূমিকম্প সহনশীলতা: ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয়।

সংযোগ সড়ক: ১৪ কিলোমিটার (জাজিরা ও মাওয়া প্রান্তে)

স্টিলের পরিমান: ৯২ হাজার মেট্রিক টন।

রিবার: ৫০ মিলি মিটারের বিশেষ রিবার ব্যবহার করা হয়েছে ১ হাজার ১৩০ মেট্রিক টন।

মোট লোকবল: ৪ হাজার মানুষ।

নদীশাসন: ১৪ কিলোমিটার নদীশাসন করতে হবে।

ঠিকাদারের নাশ: সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড চায়না।

প্রথম স্প্যান বসানো হয় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ এবং শেষ স্প্যান বসানো হয় ১০ ডিসেম্বর ২০২০।

উদ্বোধন করা হয় ২৫ জুন ২০২২।

আরও পড়ুন: স্বপ্নদোষ কেন হয়? মেয়েদেরওকি স্বপ্নদোষ হয়?

Post a Comment

Previous Post Next Post