এনজিও থেকে ক্ষুদ্রঋণের আবেদন করার পর প্রত্যেক আবেদনকারী ঋণ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদনপত্র জমা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সাধারণত আবেদনকারীর পরিচয়, আয়ের উৎস, ঋণের উদ্দেশ্য, বর্তমান আর্থিক দায় এবং কিস্তি পরিশোধের সামর্থ্যের মতো বিভিন্ন বিষয় যাচাই করতে পারে। এই যাচাইয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে অথবা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ঋণ নীতিমালার শর্ত পূরণ না হলে আবেদন অনুমোদিত নাও হতে পারে।
বাংলাদেশে বেসরকারি ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি বা এমআরএ দেশের ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দায়িত্ব পালন করে। কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্ষুদ্রঋণ নেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির সনদ ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এমআরএর সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য যাচাই করা যেতে পারে।
তবে এনজিও লোনের একটি আবেদন অনুমোদিত না হওয়া মানেই ভবিষ্যতের সব আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হবে, এমন নয়। কেন আবেদনটি এগোয়নি তা জানা, ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে সংশোধন করা এবং নিজের আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এনজিও লোনের আবেদন অনুমোদিত না হওয়ার সাধারণ কিছু কারণ এবং এমন পরিস্থিতিতে করণীয় আলোচনা করা হলো।
- গুরুত্বপূর্ণ: ঋণের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি, কিস্তির নিয়ম ও আবেদন মূল্যায়নের পদ্ধতি প্রতিষ্ঠান এবং ঋণ কর্মসূচিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান শর্ত ও প্রযোজ্য তথ্য সরাসরি যাচাই করুন।
এনজিও লোনের আবেদন কেন যাচাই করা হয়?
ক্ষুদ্রঋণের টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কিস্তিতে ফেরত দিতে হয়। ফলে ঋণ দেওয়ার আগে আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে একটি বাস্তব ধারণা নেওয়া প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহক উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীর আয়ের তুলনায় কিস্তি বেশি হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে পরিবারের স্বাভাবিক খরচ পরিচালনা এবং ঋণের কিস্তি দেওয়া দুটোই কঠিন হতে পারে। এ কারণে শুধু আবেদন করেছেন কি না, তার পরিবর্তে ঋণটি আবেদনকারীর জন্য বাস্তবে বহনযোগ্য কি না সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হতে পারে।
আবেদনপত্রে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া
আবেদন বাতিল হওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ হতে পারে প্রয়োজনীয় তথ্য অসম্পূর্ণ থাকা। নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, বর্তমান ঠিকানা, পরিবারের তথ্য, পেশা অথবা আয়ের উৎস সম্পর্কে ভুল তথ্য দিলে যাচাইয়ের সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য এবং জমা দেওয়া কাগজপত্রের তথ্য পরস্পরের সঙ্গে না মিললে প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত যাচাই করতে পারে অথবা আবেদনটি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি তথ্য মূল কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ভালো।
কিস্তি পরিশোধের পর্যাপ্ত সামর্থ্য না থাকা
ঋণের আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নিয়মিত আয় এবং সম্ভাব্য কিস্তির মধ্যে ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ এবং আগে থেকে থাকা আর্থিক দায় মেটানোর পর যদি নতুন ঋণের কিস্তি দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ না থাকে, তাহলে নতুন ঋণ নেওয়া অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। প্রতিষ্ঠানভেদে মূল্যায়নের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে। তাই নিজের প্রকৃত ও যাচাইযোগ্য আয়ের তথ্য দেওয়া এবং সম্ভাব্য কিস্তি বাস্তবে বহন করা সম্ভব কি না আগে হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ।
আগের ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ না করা
কোনো আবেদনকারীর আগে একই প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে ঋণ থাকার তথ্য যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে। পুরোনো ঋণের কিস্তি দীর্ঘদিন অনিয়মিত থাকলে নতুন ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাই নতুন ঋণের আবেদন করার আগে বর্তমান ঋণের অবস্থা পরিষ্কারভাবে জানা এবং বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। আগের ঋণের তথ্য গোপন করার পরিবর্তে সঠিক তথ্য দেওয়া বেশি নিরাপদ।
একাধিক ঋণের কারণে অতিরিক্ত আর্থিক দায়
একই সময়ে একাধিক ঋণের কিস্তি চালু থাকলে মাসিক বা সাপ্তাহিক আর্থিক দায় দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। নতুন ঋণের কিস্তি যোগ হওয়ার পর মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ আয়ের তুলনায় বেশি হয়ে গেলে সেটি আবেদন মূল্যায়নের সময় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। এখানে শুধু কয়টি ঋণ আছে সেটি নয়, বরং সব ঋণের মোট কিস্তি এবং পরিবারের প্রকৃত আয় বিবেচনা করা জরুরি। নতুন ঋণ নিয়ে পুরোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধের ওপর নির্ভর করলে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
ঋণের উদ্দেশ্য পরিষ্কার না হওয়া
অনেক ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি নির্দিষ্ট প্রয়োজন বা আয়বর্ধক কাজকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। ব্যবসা, কৃষি, গবাদিপশু পালন বা অন্য কোনো কাজে অর্থ ব্যবহার করার কথা বলা হলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত কি না তা নিয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে। আবেদনকারী নিজেই যদি ঋণের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন তা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারেন, তাহলে আবেদন মূল্যায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ঋণের উদ্দেশ্য বাস্তব ও নির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সমস্যা থাকা
জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, ঠিকানার তথ্য অথবা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক চাওয়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি অসম্পূর্ণ থাকলে আবেদন প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে। জাতীয় পরিচয়পত্রের নামের সঙ্গে আবেদনপত্রের নামের বানান না মেলা কিংবা বর্তমান ঠিকানা সম্পর্কে বিভ্রান্তি থাকলেও অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হতে পারে। কোন নথি লাগবে তা প্রতিষ্ঠানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা জেনে নেওয়া ভালো।
ঠিকানা বা বসবাসের তথ্য যাচাইয়ে অসঙ্গতি
ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করার কারণে আবেদনকারীর বর্তমান বসবাসের স্থান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আবেদনপত্রে একটি ঠিকানা দেওয়া হলেও যাচাইয়ের সময় অন্য তথ্য পাওয়া গেলে আবেদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে। সাময়িকভাবে কোনো এলাকায় অবস্থান করলে অথবা সম্প্রতি বাসা পরিবর্তন করলে সেটিও শুরুতেই পরিষ্কার করে বলা উচিত। এতে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ কমে।
প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ না করা
সব এনজিওর সব ঋণ কর্মসূচির যোগ্যতা এক নয়। কোনো কর্মসূচি নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দা, নির্দিষ্ট ধরনের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অথবা নির্দিষ্ট লক্ষ্যগোষ্ঠীর জন্য হতে পারে। ফলে একজন আবেদনকারী আর্থিকভাবে সক্ষম হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নির্ধারিত শর্তের মধ্যে না পড়লে আবেদন অনুমোদিত নাও হতে পারে। আবেদন করার আগে ঋণের উদ্দেশ্য, যোগ্যতার শর্ত, কিস্তির ধরন এবং প্রয়োজনীয় নথি সম্পর্কে জেনে নেওয়া তাই গুরুত্বপূর্ণ।
মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ে তথ্যের অমিল পাওয়া
অনেক ক্ষেত্রে আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য যাচাই করতে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী আবেদনকারীর বাড়ি, ব্যবসা বা কর্মস্থল সম্পর্কে তথ্য নিতে পারেন। আবেদনপত্রে উল্লেখ করা পেশা, ব্যবসার ধরন, আয় বা ঠিকানার সঙ্গে বাস্তব অবস্থার উল্লেখযোগ্য অমিল পাওয়া গেলে আবেদনটি নিয়ে অতিরিক্ত যাচাই বা তথ্যের প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদনপত্রে আয়, পেশা, ব্যবসা, ঠিকানা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাসম্ভব সঠিক ও হালনাগাদ দেওয়া উচিত।
চাহিদার তুলনায় বেশি ঋণের আবেদন করা
আবেদনকারীর প্রয়োজন, আয় বা ব্যবসার প্রকৃত আর্থিক অবস্থার তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ ঋণের আবেদন করা হলে প্রতিষ্ঠান অর্থের প্রয়োজনীয়তা এবং পরিশোধ সক্ষমতা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ছোট পরিসরের একটি ব্যবসার জন্য তুলনামূলক বড় অঙ্কের ঋণ চাওয়া হলে অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে তার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই ঋণের পরিমাণ নির্ধারণের সময় প্রকৃত প্রয়োজন এবং নিজের পরিশোধ সক্ষমতা বিবেচনা করা উচিত।
এনজিও লোন বাতিল হলে কী করবেন?
প্রথমে সংশ্লিষ্ট শাখা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে বিনয়ের সঙ্গে জানতে পারেন আবেদনটি কেন এগোয়নি। কারণটি কাগজপত্র, তথ্যের অসঙ্গতি বা যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত হলে সেটি সংশোধনের সুযোগ আছে কি না জেনে নিন। একই সঙ্গে নিজের বর্তমান আয়, পারিবারিক ব্যয় এবং অন্য ঋণের কিস্তি লিখে হিসাব করুন। এরপর নতুন ঋণের কিস্তি বাস্তবে বহন করা সম্ভব কি না সিদ্ধান্ত নিন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো প্রতিষ্ঠানটি বৈধভাবে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না যাচাই করা। এ জন্য মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি বা এমআরএর সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সনদসংক্রান্ত তথ্য দেখা যেতে পারে। অপরিচিত কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও বৈধতা যাচাই করুন। ঋণ অনুমোদনের নিশ্চয়তার কথা বলে সন্দেহজনকভাবে অগ্রিম অর্থ বা সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হলে সতর্ক থাকুন।
আবেদন করার আগে যে প্রস্তুতি নিলে ভুল কমবে
প্রথমে আপনার প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করুন এবং অর্থ কোথায় ব্যবহার করবেন তার একটি সহজ হিসাব তৈরি করুন। এরপর নিয়মিত আয় থেকে পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় এবং বর্তমান আর্থিক দায় বাদ দিয়ে নতুন কিস্তি পরিশোধ করা বাস্তবে সম্ভব কি না দেখুন। জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্রের তথ্য মিলিয়ে নিন। বর্তমানে অন্য ঋণ থাকলে তার সঠিক তথ্য দিন। সবশেষে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে বর্তমান যোগ্যতা, কিস্তির নিয়ম, প্রযোজ্য শর্ত এবং প্রয়োজনীয় নথি সম্পর্কে সরাসরি জেনে নিন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
১. এনজিও লোনের আবেদন কি কোনো কারণ ছাড়াই বাতিল হতে পারে?
সাধারণত একটি প্রতিষ্ঠান তার নিজস্ব ঋণ মূল্যায়ন নীতিমালা অনুসারে আবেদন যাচাই করে। আবেদনকারী নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ না করলে, তথ্য যাচাইয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে অথবা পরিশোধ সক্ষমতা পর্যাপ্ত মনে না হলে আবেদন অনুমোদিত নাও হতে পারে। নির্দিষ্ট কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে সরাসরি কথা বলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
২. একটি এনজিওতে ঋণ থাকলে অন্য এনজিওতে আবেদন করা যাবে?
অন্য প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা যাবে কি না এবং সেই আবেদন বিবেচিত হবে কি না তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে। আগে থেকে কোনো ঋণ থাকলে সেই তথ্য গোপন না করে সঠিকভাবে জানানো উচিত। পাশাপাশি একাধিক ঋণের কিস্তি একসঙ্গে পরিশোধ করা আপনার বর্তমান আয়ের মধ্যে বাস্তবে সম্ভব কি না সেটিও আগে হিসাব করা প্রয়োজন।
৩. পুরোনো ঋণের বকেয়া থাকলে নতুন ঋণ পাওয়া সম্ভব?
পুরোনো বকেয়া নতুন আবেদন মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান আয় দিয়ে আগের কিস্তিই নিয়মিত দেওয়া সম্ভব না হলে আরেকটি ঋণ নেওয়া আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে। নতুন আবেদন করার আগে বকেয়ার অবস্থা এবং পরিশোধের উপায় নিয়ে বর্তমান ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো।
৪. জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল থাকলে কি আবেদন আটকে যেতে পারে?
পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে আবেদনপত্রের তথ্য না মিললে যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে। নাম, জন্মতারিখ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে ভুল থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের ব্যবস্থা করা উচিত। একই ব্যক্তির তথ্য বিভিন্ন কাগজে ভিন্নভাবে থাকলে আবেদন করার সময় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো ভালো।
৫. আয় কম হলে কি এনজিও লোন পাওয়া যায় না?
শুধু আয় কম হওয়াই সব ক্ষেত্রে আবেদন অনুমোদিত না হওয়ার একমাত্র কারণ নয়। কত টাকা ঋণ চাওয়া হচ্ছে, সম্ভাব্য কিস্তির পরিমাণ, পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় এবং আগে থেকে অন্য আর্থিক দায় রয়েছে কি না, এসব বিষয় আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিবেচিত হতে পারে। তাই নিজের আয় ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য কিস্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না আগে হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ।
৬. আবেদন বাতিল হলে সঙ্গে সঙ্গে আবার আবেদন করা উচিত?
কারণ না জেনে একই তথ্য দিয়ে দ্রুত আবার আবেদন করলে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। প্রথমে আবেদন গ্রহণ না হওয়ার সম্ভাব্য কারণ জানুন। ভুল নথি বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে সংশোধন করুন এবং আর্থিক সক্ষমতার সমস্যা থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর আবেদন বিবেচনা করুন।
৭. এনজিও লোনের জন্য জামিনদার সব সময় প্রয়োজন হয় কি?
সব প্রতিষ্ঠান বা সব ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কোনো কর্মসূচিতে জামিনদার, অতিরিক্ত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য বা অন্য ধরনের যাচাই প্রয়োজন হতে পারে, আবার অন্য কর্মসূচিতে নিয়ম ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান শর্ত ও প্রয়োজনীয় নথির তালিকা সরাসরি জেনে নেওয়া উচিত।
৮. এনজিও লোনের আবেদন করার আগে কোন তথ্য সবচেয়ে বেশি যাচাই করা উচিত?
নিজের পরিচয়, বর্তমান ঠিকানা, আয়ের উৎস, প্রয়োজনীয় ঋণের পরিমাণ, বর্তমান ঋণ এবং মাসিক বা সাপ্তাহিক পরিশোধ সক্ষমতা আগে যাচাই করা ভালো। পাশাপাশি আবেদনপত্রে লেখা তথ্য যেন জমা দেওয়া নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা উচিত।
৯. কোনো এনজিও বৈধভাবে ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা করছে কি না কীভাবে বুঝব?
বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যাচাই করার জন্য মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি বা এমআরএর সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সনদসংক্রান্ত তথ্য দেখা যেতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্ষুদ্রঋণ নেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির নাম ও পরিচয় সরকারি তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ভালো। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও তাদের বর্তমান সনদ ও ঋণ কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানতে পারেন।
১০. এনজিও লোনের আবেদন সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে কী করা উচিত?
ঋণ অনুমোদনের কোনো নিশ্চয়তা নেই, কারণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মূল্যায়ন ও নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। তবে আবেদন করার সময় সঠিক তথ্য দেওয়া, প্রয়োজনীয় নথি সম্পূর্ণ রাখা, বর্তমান ঋণ ও আর্থিক দায়ের তথ্য গোপন না করা এবং প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের পরিমাণ উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সম্ভাব্য কিস্তি নিজের বর্তমান আয়ের মধ্যে বহন করা সম্ভব কি না আগে হিসাব করে নেওয়া উচিত।
উপসংহার
এনজিও লোনের আবেদন বাতিল হওয়ার পেছনে অসম্পূর্ণ তথ্য, নথিতে অসঙ্গতি, কিস্তি পরিশোধের সীমিত সামর্থ্য, আগের ঋণের বকেয়া, অতিরিক্ত আর্থিক দায়, অস্পষ্ট ঋণের উদ্দেশ্য অথবা নির্দিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা পূরণ না করার মতো বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ প্রতিষ্ঠান এবং আবেদনভেদে আলাদা হতে পারে।
তাই আবেদন করার আগে তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই করা, প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করা এবং নিজের পরিশোধ সক্ষমতার বাস্তব হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান শর্ত ও প্রয়োজনীয় নথি সরাসরি যাচাই করুন। ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্তে শুধু অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি নয়, কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করা আপনার বর্তমান আর্থিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না সেটিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।