জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ও উত্তোলন ফি প্রদান করার নিয়ম

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ও উত্তোলন ফি প্রদান

বাংলাদেশে জাতীয় ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন এবং উত্তোলন এখন আপনি ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে করতে পারবেন। আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলের মাধ্যমে আপনি ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন এবং ফি জমা দিতে পারবেন। এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের সংশোধন বা উত্তোলন ফি জমা দেয়া যায়। কষ্ট করে আপনাকে আর ব্যাংকে যেয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফি জমা দিতে হবে না। চলুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে ফি জমা দিবেন।

জাতীয় পরিচয়পত্রের ফি যেভাবে দেখবেন

প্রথমে আপনাকে দেখতে হবে আপনার চাহিত সংশোধনের জন্য কত টাকা ফি দিতে হবে। তার জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন services.nidw.gov.bd এই ওয়েবসাইটে যেতে হবে। তারপর নিচে দেয়া ছবিটির নেয় “ফিস” সিলেক্ট করুন।

জাতীয় পরিচয়পত্রের ফি হিসাব করার নিয়ম


ছবিটির মত আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিন। আপনার NID কার্ড যদি ১৩ ডিজিটের হয়ে থাকে, তাহলে জন্ম সালটি পূর্বে দিয়ে ১৭ ডিজিট করতে হবে। আবেধনের ধরন ঘরে সিলেক্ট করুন আপনি আপনার এনআইডি কার্ডের কি পরিবর্তন করতে চান। যদি নিজের নাম, পিতা-মাতার নাম, বৈবাহিক অবস্থা, স্বামী/স্ত্রীর নাম বা জন্ম তারিখ সংশোধন করতে চান তাহলে “জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন” সিলেক্ট করুন এবং বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, টিন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট নম্বর, ধর্ম, মোবাইল নম্বর সংশোধন করতে চাইলে “অন্যান্য তথ্য সংশোধন” সিলেক্ট করুন। আর যদি উভয়টিই সংশোধন করতে চান তাহলে “জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য তথ্য সংশোধন” সিলেক্ট করতে হবে। তবে সংশোধ না করে যদি আপনি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রটি উত্তোলন করতে চান তাহলে রিইস্যু সিলেক্ট করতে হবে। বিতরনের ধরন থেকে সিলেক্ট করুন সাধারণ নাকি জরুরী। সাধারণ হলে কিছুদিন লেইট হবে ভোটার কার্ডটি পেতে। আর যদি জরুরী সিলেক্ট করেন তাহলে কম সময়ের মধ্যে পেয়ে যাবেন। তবে হ্যা, জরুরী দিলে ফি একটু বেশি দিতে হবে। তারপর ক্যাপচাটির মধ্যে যে লেখাটি রয়েছে তা নিচের ঘরে হবহু লিখতে হবে। তারপর হিসাব করুন বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে দেখতে পাবেন আপনার চাহিত সংশোধনির জন্য কত টাকা ফি জমা দিতে হবে।

কিভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন বা উত্তোলন ফি বিকাশের মাধ্যমে জমা দিবেন।

বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফি প্রদান


আপনার বিকাশ এপসটি ওপেন করুন এবং পে বিল অপশনে ক্লিক করুন। তারপর একটু নিচে যেয়ে উপরের ছবির নেয় NID Service অপশনের ক্লিক করুন। 

বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফি প্রদান


এবার আবেদনের ঘরে সিলেক্ট করতে হবে আপনি কি ধরনের সংশোধন ফি জমা দিতে চাচ্ছেন। তবে সবার আগে দেখতে হবে আপনি যে যে তথ্যগুলো সংশোধনের জন্য সিলেক্ট করেছেন সেই তথ্যগুলো কোন সংশোধনের আওতায় পরে। এই জন্য আগে আবেদন করুন এবং আপনার সংশোধনগুলো সিলেক্ট করে পেমেন্ট অপশন ধাপে যাওয়ার পর দেখুন আপনার সংশোধনটি কোনটির আওতায় পরে। “আবেদনের ধরন” এই ঘরে দেয়া থাকবে আপনার আবেদনটি কোন সংশোধনির আওতায় পরেছে। “আবেদনের ধরন” এই ঘরে যে ধরন দেয়া থাকবে, আপনাকে সেই আওতায় টাকা পরিশোধ করতে হবে। নাহয় আপনি ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে পারবেন না এবং আপনাকে আবার টাকা পেমেন্ট করতে হবে। নিজের নাম, পিতা-মাতার নাম, স্বামী/স্ত্রীর নাম ও জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য NID Info Cerrection সিলেক্ট করতে হবে। বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা,  পেশা, টিন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট নম্বর, ধর্ম, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি সংশোধনের জন্য Other Info Correction সিলেক্ট করুন। যদি উপরের দুইটি সংশোধন করতে চান তাহলে Both Info Correction সিলেক্ট করুন। আর যদি নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র উত্তোলন করতে চান তাহলে Duplicate Regular সিলেক্ট করুন। জরুরী ভিত্তিতে হারানো বা নষ্ট  NID কার্ড উত্তোলন করতে চাইলে Duplicate Urgent সিলেক্ট করুন। নিচের ঘরে আপনার এনআইডি নম্বর দিয়ে সবার নিচের পে বিল করতে এগিয়ে যান অপশনে ক্লিক করুন। পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করে বের হয়ে নির্বাচন অফিসের ওয়েবসাইটে যেয়ে দেখবেন আপনার টাকা জমা হয়েগেছে। তবে জমা হতে ৩০ মিনিটের মত সময় লাগতে পারে।

আরও পড়ুন: ভোটার আইডি কার্ড চেক ও ডাউনলোড করার উপায়।

পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
মন্তব্য নেই
মন্তব্য যোগ করুন
comment url