ভালো মানের রড চেনার উপায়। নির্মান কাজে যে রড ব্যবহার করতে হয়

যে রড সাদে ব্যবহার করতে হয়
রড

বাংলাদেশ এখন রড উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশীয় রড ব্যবহার করা হচ্ছে ভবন নির্মাণে। ভবনের কাঠামো রড দিয়ে তৈরি। এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবন নির্মাণে রড ব্যবহারের ক্ষেত্রে গাফিলতি করলে দুর্ঘটনা এড়ানোর উপায় নেই। নির্মাণে নিম্নমানের রড ব্যবহার করা হলে ঝুঁকি বেশি।

অ্যাসুরেন্স ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের রাইসা প্রজেক্টের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার জায়েদ সুমন বলেন, “অনেকে ভবন নির্মাণের খরচ কমাতে যেয়ে রড কম দেয়ার কথা ভাবেন, যা মোটেও ঠিক না। স্থাপনা নির্মানে ভালো রড ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। ভালো মানের রড ব্যবহার করলে ভবনের ঝুঁকির পরিমাণ কমে যায়। ৩ মি.মি. থেকে শুরু করে ৪, ৫, ৮, ১০, ২০ এবং ২৫ মি.মি. পর্যন্ত বিভিন্ন রড এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভবন নির্মাণে সাধারণত তিন ধরনের রড ব্যবহার করা হয়। পাইলিং, স্ল্যাব, বিম বা কলাম নির্মাণে বিভিন্ন ধরনের রড ব্যবহার করা হয়।

ডিফর্ম বা খাঁজ কাটা রডের ব্যবহার

ঐ রড ভালো, যে রড কংক্রিটের সাথে ভালো বন্ধন তৈরি করতে পারে। বাজারে ৪০ গ্রেড, ৬০ গ্রেড এবং ৭৫ গ্রেডের রড পাওয়া যায়। এখন ৪০ গ্রেডের রড খুব কমই ব্যবহৃত হয়। ৬০ গ্রেডের রড সাধারণত ভবন নির্মাণে বেশি ব্যবহৃত হয়। ৭৫ গ্রেড হল এক্সট্রিম গ্রেড। বহুতল ভবন নির্মাণে এই এক্সট্রিম গ্রেডের রড বেশি ব্যবহৃত হয়। তাই ৬০ গ্রেড বা ৭৫ গ্রেডের যেকোন একটি আপনার ভবন নির্মানের জন্য বেছে নিতে পারেন। রড সাধারণত দুই ধরনের হয়, মাইল্ড স্টিল (MS) এবং স্টেইনলেস স্টিল (SS)।  সাধারণত এসএস রড চুম্বক ধরে না। এই ধরনের রড ভালো। ডিফর্ম বা খাঁজ কাটা রড প্লেইন রড থেকে ভালো, কারণ খাঁজ কাটা রড কংক্রিটের সাথে ভালোভাবে বন্ধন তৈরি করতে পারে, তাই এই রড ব্যবহার করা উচিৎ।

ভালো মানের রডের বৈশিষ্ট্য

ভাল রড চেনার উপায় হল ঐ রডে মরিচা ধরবে না এবং রডে কোন ফাটা থাকবে না। সহজে মরিচা ধরে এমন রড ভালো নয়। কেনার সময় যদি দেখেন রডের গায়ে মরিচা ধরে আছে, তাহলে এই রড না কেনাই  ভালো। রডটিকে ৯০ ডিগ্রী থেকে ১৩০ ডিগ্রী পর্যন্ত বাকা করবেন। তারপর আবার সোজা করে দেখবেন রডটিতে কোন ফাটল ধরেছে কিনা? যদি ফাটল ধরে তাহলে বুঝে নিবেন এই রডের মান ভালো না। এমন রড কেনা থেকে বিরত থাকুন। আপনি যে প্রতিষ্ঠানের রড ক্রয় করবেন তাতে মান নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠানের সীল রয়েছে কিনা দেখুন। প্রতিটি রডে বিএসটিআই এবং বুয়েট বা অন্যসব মান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের সীল দেখে ক্রয় করুন।

রডের মান নিশ্চিত হওয়ার পর রড ক্রয় করা উচিৎ। রড, সিমেন্টের মতো মৌলিক উপকরণগুলো ভবন নির্মাণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রড-সিমেন্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভালো মানের রড ভবনকে ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। BSRM এর নির্বাহী পরিচালক তপন সেনগুপ্ত বলেন, “রড হলো ভবনের মূল কাঠামো। ভালো রড কিনলে ভবন দীর্ঘস্থায়ী হবে; ঝুঁকি কমে যাবে। আমরা ভালো মানের রড কেনার পরামর্শ দেব।” অনেক সময় কংক্রিট ও রডের অনুপাত সঠিকভাবে মানা হয় না, তাই ভবনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই আনুপাতিক হার ঠিক রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: বালি, কনক্রিট বা পাথর মাপার সহজ পদ্ধতি

রেফারেন্স: প্রথম আলো


পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
মন্তব্য নেই
মন্তব্য যোগ করুন
comment url