বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট বা ইলেকট্রিক শক লাগলে তৎক্ষণাৎ যা করবেন এবং যা ভুলেও করতে যাবেন না

 

বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হলে যা করতে হবে
বিদ্যুৎ


বিদ্যুৎ আমাদের জীবনকে করেছে অনেক সহজ এবং আরামদায়ক। তবে, এতে কিছু ঝুঁকি রয়েছে। এ জন্য বিদ্যুৎ চালিত জিনিসগুলো সাবধানে ব্যবহার করতে হবে। তবেই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। অনেক সময় ইলেকট্রিক শক লেগে মানুষের মৃত্যুর কথা আমরা শুনি। এত বেশি দুর্ঘটনার কারণ হল বাড়ি ঘরের ভিতরে ও বাড়ি ঘরের খুব কাছ দিয়ে অনিরাপদ বিদ্যুতের সংযোগ নেয়া। এসব সংযোগ যেন এক একটি মৃত্যুর ফাঁদ। এসব ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগে যে কারো মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু একটু সচেতন হলে এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

যখন কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়, তখন আমাদের আশেপাশের লোকেরা প্রায়শই বুঝতে পারে না এখন তাদের কী করা উচিত। অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে যায় এবং এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। তবে সহজ কিছু পদ্ধতি জানা থাকলে মৃত্যু ঝুঁকি কমানো যায়।

নিজেকে নিরাপদ রেখে অন্যকে বাঁচানো:

এমন অনেক ঘটনা আছে যেখানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর তার পাশের ব্যক্তি তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছে।

“বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় প্রথমেই বিদ্যুৎ বন্ধ করা”,বললেন অগ্নি ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের সাবেক পরিচালক একেএম শাকিল নেওয়াজ। এতে করে আক্রান্ত ব্যক্তি বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। কিন্তু যদি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা না যায়, তাহলে বিদ্যুতের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিকে কোনোভাবেই খালি হাতে স্পর্শ করা যাবে না।" শুকনো কাঠ, বাঁশ, ওলের কাপড়, রাবার দিয়ে তৈরি যেকোনো কিছু দিয়ে, পায়ে জুতা বা স্যান্ডেল পরার পর বিদ্যুতায়িত ব্যক্তিকে দূরত্ব বজায় রেখে বিদ্যুতের উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট ব্যক্তিকে বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে আলাদা করতে গিয়ে, অনেকেই বিদ্যুতায়িত ব্যক্তিকে বেশ জোরে আঘাত করে বসেন -  যা করা যাবে না।

বিদ্যুতায়িত ব্যক্তিকে সংযোগ থেকে আলাদা করতে ধাতব বস্তু বা ভেজা কিছু কোনো অবস্থাতেই ব্যবহার করা যাবে না। এর কোনোটিই না করতে পারলে বিদ্যুৎ অফিসকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে জানাতে হবে। এটি কোন ভেজা জায়গায় ঘটলে, নিজেকে রক্ষা করার জন্য নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে, বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট ব্যক্তিকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে। কোন অবস্থাতেই তার কাছে যাওয়া যাবে না। গেলে আপনিও তার সাথে মারা যাবেন।

বিদ্যুতায়িত হলে কি কি শারীরিক সমস্য হতে পারে?

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ রাগীব মনজুর বলেন, সবচেয়ে বড় দুটি শারীরিক সমস্যা হতে পারে। ১টি হলো শরীর পুড়ে যাওয়া এবং অন্যটি হচ্ছে হৃদযন্ত্রে চাপ তৈরি হওয়া। 

"এছাড়াও, বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসার ফলে স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে, আক্রান্ত ব্যক্তি জ্ঞান হারাতে পারে। শরীরের যে অংশটি বিদ্যুৎ সংস্পর্শে এসেছে বা পুরো শরীর অবশ হয়ে যেতে পারে, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা এবং শরীর ঝিমঝিম করতে পারে"

“আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক সমস্যার তীব্রতা নির্ভর করে বৈদ্যুতিক ভোল্টেজের মাত্রা, তিনি কতক্ষণ বিদ্যুতের সংস্পর্শে ছিলেন, তার হার্ট বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কিনা—এসব বিষয়ের উপর” বলেন শাকিল নেওয়াজ ।

প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা:

হাসপাতালে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে বালিশ ছাড়া মাটির মধ্যে কাত করে একপাশে শুইয়ে দিতে হবে এবং শরীরের পোশাক ঢিলেঢালা করে দিতে হবে।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তির শরীরে রক্ত ​​সঞ্চালন বাড়ানোর জন্য ম্যাসাজ করতে হবে।
জিহ্বা উল্টানো আছে কিনা তা পরীক্ষা করুন, যদি এটি উল্টানো থাকে তবে আঙুল দিয়ে সোজা করুন। 
নাকে-মুখে কিছু আটকে থাকলে অবশ্যই পরিষ্কার করতে হবে- অন্যথায় আক্রান্ত ব্যক্তির দম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
শ্বাস বন্ধ হয়েগেলে আক্রান্ত ব্যক্তির চিবুক এবং চোয়াল চেপে ধরে, মুখটি সামান্য হাই তোলে, তারপর আপনাকে আপনার মুখটি সেখানে রেখে জোরে ফুঁ দিতে হবে।
কোন অবস্থাতেই বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির শরীর বা মাথায় পানি দেয়া যাবে না।
শ্বাস সচল না থাকলে, হার্টের উপর উভয় হাত দিয়ে খুব জোরে চাপ দিতে হবে, যাতে হার্টবিট সচল হয় এবং যত দ্রুত সম্ভব হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে। 

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ এবং ডেঙ্গু জ্বর হলে করণীয়


রেফারেন্স: বিবিসি নিউজ

পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
মন্তব্য নেই
মন্তব্য যোগ করুন
comment url