ঘরে বসেই নিজেই নিজের পাসপোর্ট তৈরি করুন এবং নিজেই নিজের পাসপোর্ট রিনিউ করুন:

 পাসপোর্টের জন্য আবেদন:

ঘরে বসেই পাসপোর্ট তৈরি করুন
বাংলাদেশি পাসপোর্ট


অনলাইন পাসপোর্ট আবেদনের জন্য আপনাকে ৫(পাঁচ) টি ধাপ সম্পূর্ণ করতে হবে:

ধাপ-১ : বর্তমানে আপনার বসবাসরত এলাকায় ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে কি না দেখেনিন । দেখার জন্য ক্লিক করুন ‘এখানে’
ধাপ-২ : অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।
ধাপ-৩ : পাসপোর্ট ফি পরিশোধ । 
ধাপ-৪ : ছবি ও ফিঙ্গার প্রিন্টের জন্য পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে । 
ধাপ-৫ : তারপর পাসপোর্ট অফিস থেকে ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ । 

চলুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে ধাপগুলো সম্পূর্ণ করতে হবে:

প্রথমে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, যাকে বলে Step 1:

রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন,
Are you applying from Bangladesh?
এখানে Yes দিন।
আপনার বর্তমান জেলা নির্বাচন করুন। তারপর আপনার বর্তমান থানা নির্বাচন করুন। তারপর Continue ক্লিক করুন


Step 2:
আপনার একটি ই-মেইল দিন (যেখানে ভেরিফিকেশন যাবে)
I am human ( এখানে ক্লিক করে নির্দেশিত সবগুলো ছবি বাছাই করুন এবং verify ক্লিক করুন, কয়েকবার বাছাই করতে বলতে পারে। যতবার বাছাই করতে বলবে ততবার সঠিক ছবিগুলো বাছাই করুন) তারপর Continue ক্লিক করুন

Step 3:
আপনার ই-মেইল দিন (আগে থেকে থাকলে দেয়ার দরকার নেই) এবং নতুন পাসওয়ার্ড দিন (প্রথমটি বড় হাতের অক্ষর দিতে হবে)।
তারপরের গুলো ছোট হাতের অক্ষর দিন এবং ১ থেকে ৯ এর মধ্যে আপনার পছন্দ মত সংখ্যা দিন। অবশ্যই পাসওয়ার্ডটি ৬ সংখ্যার হতে হবে। মনে রাখবেন, বর্তমান ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড ছাড়া আপনি আবেদন করতে পারবেন না এবং পরবর্তীতে সাইন ইন করতে পারবেন না। তাই ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড একটি খাতায় লিখে রাখুন।

প্রথম password এর ঘরে যা দিয়েছেন Repeat password এর ঘরে তাই দিন। Personal Information এর ঘরে আপনার NID জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী /BRC অনলাইন জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী নাম দিন। আর আপনি যদি আগেই পাসপোর্ট করে থাকেন এবং এখন রিনিউ করাতে চাচ্ছেন, তাহলে আপনার আগের পাসপোর্টে যে নামে এবং যেভাবে নামের বানান রয়েছে সেভাবে দিন।
Given name হলো আপনার নামের প্রথম অংশ ( যেমন: ABU KAWSAR MUNSHE এখানে ABU KAWSAR গিবেন নেইম, যদি KAWSAR MUNSHE নাম হতো, তাহলে KAWSAR হতো গিবেন নেইম)
Surname হলো আপনার নামের শেষের অংশ ( যেমন: ABU KAWSAR MUNSHE,এখানে MUNSHE সারনেইম)
Select country code থেকে বাংলাদেশ সিলেক্ট করুন,  তারপর Mobile Number ঘরে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন।
পরবর্তী স্টেপে যান এবং আপনার ই-মেইলে একটি মেইল যাবে । মেইলে প্রবেশ করে ভেরিফিকেশন কনফ্রাম করুন । এখন আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ হলো।
পাসপোর্টের জন্য আবেদন


এবার epassport এর হোম পেইজে গিয়ে Sign in করুন। Sign in করার আগে ছবিটির নেয় বাংলা করে নিন। Sign In করতে ‘এখান’  ক্লিক করুন। সাইন ইন করার পর Apply for a new e-passport ক্লিক করুন। তারপর সাধারণ পাসপোর্টের জন্য Ordinary Passport এ ক্লিক করুন এবং অফিসিয়াল কাজের জন্য  Official Passport এ ক্লিক করুন এবং Save and Continue দিন। 

Ordinary Passport বা সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে থাকলে I apply for myself এর ঘরে টিক দিন এবং select gender এর ঘরে Male/Female সিলেক্ট করুন । আপনি যে নামে রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন সেগুলো অটোমেটিকলি এখানে দেখাবে।

তারপর আপনার বাকি তথ্যগুলো ফিলাপ করেনিন এবং Citizenship information এর ঘরে Naturalization সিলেক্ট করুন এবং Save and Continue দিন। তারপর আপনার ঠিকানা দিন এবং Save and Continue দিন । 

তারপর ID Documents ধাপ আসবে। Do you have any previous passports? এখানে আপনার পূর্ববর্তী পাসপোর্ট থেকে থাকলে এবং সে পাসপোর্ট যদি রিনিউ করাতে চান তাহলে আপনার পূর্ববর্তী পাসপোর্টটি কিধরনের তা সিলেক্ট করুন এবং পাসপোর্ট না থকরলে No, I don't have any previous passport সিলেক্ট করুন এবং বাকি তথ্যগুলো সিলেক্ট করে National ID No.এর ঘরে  আপনার ID Card এর নম্বর দিন এবং Save and Continue দিন। 

এবার ID Card অনুযায়ী বাবা ও মা এর নাম দিন এবং বাকি তথ্যগুলো ফিলাপ করুন এবং Save and Continue দিন। 

এবার Spouse Information মানে আপনার বৈবাহিক অবস্থা । বিবাহিত হলে আপনার স্ত্রীর তথ্য দিন। এবার আপনার ইমার্জেন্সি তথ্য দিন আর্থাৎ আপনি বিদেশে গিয়ে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে কার সাথে যোগাযোগ করবে সেই তথ্য দিন। এবার আপনি কত পেইজের পাসপোর্ট চাচ্ছেন এবং কত বছর মেয়াদে চাচ্ছেন সিলেক্ট করুন। 

কোন পাসপোর্টের জন্য কত টাকা ফি দিতে হবে তা নিচে দেয়া হলো:  

৪৮ পৃষ্ঠা ও পাঁচ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের জন্য:

* ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে চাইলে (নিয়মিত বিতরণ)  ৪,০২৫ টাকা।
* ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে চাইলে  (জরুরী বিতরণ) ৬,৩২৫ টাকা।
* ২ দিনের মধ্যে চাইলে (অতীব জরুরী বিতরণ) ৮,৬২৫ টাকা।

৪৮ পৃষ্ঠা ও দশ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের জন্য:

* ১৫ থেকে ২১ দিনের মধ্যে চাইলে (নিয়মিত বিতরণ) ৫,৭৫০ টাকা।
* ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে চাইলে  (জরুরী বিতরণ) ৮,০৫০ টাকা।
* ২ দিনের মধ্যে চাইলে (অতীব জরুরী বিতরণ) ১০,৩৪০ টাকা।

৬৪ পৃষ্ঠা ও পাঁচ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের জন্য:

* ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে চাইলে (নিয়মিত বিতরণ)  ৬,৩২৫ টাকা।
* ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে চাইলে  (জরুরী বিতরণ) ৮,৬২৫ টাকা।
* ২ দিনের মধ্যে চাইলে (অতীব জরুরী বিতরণ) ১২,০৭৫ টাকা।

৬৪ পৃষ্ঠা ও দশ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের জন্য:

* ১৫ থেকে ২১ দিনের মধ্যে চাইলে (নিয়মিত বিতরণ)  ৮,০৫০ টাকা।
* ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে চাইলে  (জরুরী বিতরণ) ১০,৩৫০ টাকা।
* ২ দিনের মধ্যে চাইলে (অতীব জরুরী বিতরণ) ১৩,৮০০ টাকা।


ব্যাংক পেমেন্ট:

সকল সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে এ-চালানের মাধ্যমে ই-পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করা যাবে। 

বি:দ্র: যাদের NOC/অবসর সনদ (সরকারি চাকরিজীবিদের ক্ষেত্রে) রয়েছে তারা নিয়মিত ফি জমা দেওয়া সাপেক্ষে জরুরী সুবিধা পাবেন।

পেইজ ও মেয়াদ যত বেশি হবে টাকা তত বেশি লাগবে। আপনার যদি কিছুদিন পর পর বিদেশ যেতে না হয় তাহলে আপনি ৪৮ পেইজ এবং ১০ বছরের মেয়াদ সিলেক্ট করতে পারেন। এতে করে আপনার টাকাও কম লাগবে এবং পাসপোর্টের মেয়াদও বেশিদিন থাকবে। আর যদি শুধু এক দুইবারের জন্য বিদেশ যাওয়ার জন্য যদি পাসপোর্ট করে থাকেন তাহলে ৪৮ পেইজ এবং ৫ বছর মেয়াদ সিলেক্ট করুন। আর যারা কিছুদিন পর পর বিদেশ যেতে হয় তাহলে ৬৪ পেইজ এবং পাঁচ বছর মেয়াদ সিলেক্ট করতে পারেন। কেননা ৬৪ পেইজ আপনার দশ বছর যাবে না। কারণ আপনাকে কিছুদিন পরপর বাহিরের দেশে যেতে হবে। এবার  Save and Continue দিন। 

এখন পাসপোর্ট ইমার্জেন্সি চাইলে Express delivery দিন। জরুরী না হলে Regular delivery দিন এবং Save and Continue দিন। 

এবার আপনার সকল তথ্য এক নজরে দেখাবে। ভালোভাবে দেখে নিন আপনার কোন তথ্য ভুল আছে কি না। যদি ভুল থাকে তালে Edit বাটনে ক্লিক করে সংশোধন করে নিন। কনফার্ম করার হয়েগেলে আর সংশোধন করতে পারবেন না। সকল তথ্য সঠিক থাকলে Confirm and proceed to payment এ ক্লিক করুন। 
এবার পেমেন্ট ফরম ও আবেদন ফরমটি প্রিন্ট করুন এবং অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। পাসপোর্ট অফিস কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই করে আপনার ফিংগার এবং ছবি সংগ্রহ করবে (সাথে ছবি নিতে হবে না)।

অনলাইন পাসপোর্ট ফরম পূরণের কিছু নিয়ম ও সুবিধাসমূহ :

১। অনলাইন পাসপোর্টের আবেদনপত্র অনলাইনে পূরণ করা যাবে।
২। অনলাইন পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে কোন কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন নেই।
৩। অনলাইন পাসপোর্ট ফরমে কোন ছবি সংযোজন এবং তা সত্যায়নের প্রয়োজন নেই।
৪। জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ অনুযায়ী অনলাইন আবেদন পত্র পূরণ করতে হবে।
৫। ১৮ বছরের কম বয়সের আবেদনকারি, যার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)নেই, তার ক্ষেত্রে পিতা অথবা মাতার (NID)নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
৬। তারকা (*) চিহ্নিত ক্রমিক নম্বরগুলো অবশ্যই পূরণীয়।
৭।  আবেদন বর্তমান ঠিকানা সংশ্লিষ্ঠ বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস/আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস/বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনে দাখিল করতে হবে।
৮। আঠারো বছরের নিম্নের এবং ৬৫ বছরের উর্ধ্বে সকল আবেদনে ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ০৫ বছর এবং ৪৮ পৃষ্ঠার।
৯। প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল সনদসমূহ (যেমন: ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদি) আপলোড/সংযোজন করতে হবে।
১০। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক জিও (GO)/এনওসি (NOC)/ প্রত্যয়নপত্র/ অবসরোত্তর ছুটির আদেশ (PRL Order)/ পেনশন বই আপলোড/সংযোজন করতে হবে যা ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের নিজ নিজ Website এ আপলোড থাকতে হবে। 
১১। অতি জরুরী পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে (নতুন ইস্যু) নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ পূর্বক আবশ্যিকভাবে আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
১২। (ক) দেশের অভ্যন্তরে অতি জরুরী পাসপোর্ট প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাখিল করা হলে অন্যান্য সকল তথ্য সঠিক থাকা সাপেক্ষে  দুই দিনের মধ্যে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।
(খ) দেশের অভ্যন্তরে রেগুলার পাসপোর্ট প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাখিল করা হলে অন্যান্য সকল তথ্য সঠিক থাকা সাপেক্ষে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।
১৩। আবেদনের সময় মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সনদ, সরকারি আদেশ (GO)/অনাপত্তি (NOC) প্রদর্শন/দাখিল করতে হবে।
১৪। পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে মূল পাসপোর্ট দেখাতে হবে।
১৫। হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূল জিডির কপি দিতে হবে।

আরও পড়ুন: জমি বা ভূমির শতাংস বের করার নিয়ম এবং সহজেই জেনে নিন আপনার জমি কত শতক বা কাঠা আছে

তথ্য সূত্রঃ 
বহিরাগমন শাখা ১ , সুরক্ষা সেবা বিভাগ , স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন